দক্ষিণ এশিয়ার নারীরা আর ঘরে আটকে নেই রান্না-সন্তান ধারণ-সন্তান পালন—এর বাইরে তাঁরা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে বেরিয়ে এসেছেন বোঝা যাচ্ছে
আর তাঁদের এই বেরিয়ে আসাটা যে সামাজিকভাবে গৃহীত হয়েছে পুরুষের নেতিবাচক ভূমিকাকে ছাড়িয়ে পুরুষকে পাশে রেখে সমানতালে এগিয়ে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে তাও প্রতীয়মান
কিন্তু তার মানে এটা নয় যে এ অঞ্চলের নারীরা নিরাপদ অহিংস এবং বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন
উদাহরণ পাকিস্তান থেকে আয়েশা খান বলেছেন শাহিদ-মুমতাজ ১৯৮১ একটা জরিপে দেখেছেন যে কিশোরী-তরুণীদের একটা বড় অংশ ঘর ছেড়ে পর্দা ছেড়ে বাইরে কাজ করতে এসেছে কেবল যৌতুকের চাহিদা মেটাতে দারিদ্র্য তাদের বাধ্য করেছে ভিনদেশের শ্রমবাজারে আসতে
আরেকটি জরিপ পাকিস্তান ইন্টিগ্রেটেড হাউসহোল্ড সার্ভে ১৯৯৮-৯৯ বলছে শ্রমবাজারে অংশ নেওয়া নারীদের এই অংশগ্রহণ স্বেচ্ছায় ও সাগ্রহে নয় বরং পরিবারের অন্যদের আদেশে
এই চিত্র কি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে খুব অভিন্ন একই প্রবন্ধে উল্লিখিত পাকিস্তানের কর্মজীবী নারীরা শিকার হন মজুরিবৈষম্যের অদক্ষতাজনিত দুর্ঘটনার এবং ঘরের কাজ ও শিশু পালন করতে গিয়ে দ্বিগুণ পরিশ্রমের মাহবুবুল হক হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট সেন্টার ২০০০
আমাদের বেলায় কি ব্যাপারটা প্রায় একই রকম নয় ক্ষমতায়নের যে আরেক দৃষ্টান্ত আমাদের এই তিনটি দেশে দৃশ্যমান তা হলো রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ
তিন দেশেই ক্ষমতার শীর্ষে নারীদের অবস্থানের ইতিহাস প্রমাণ করে যে ক্ষমতা ও ক্ষমতায়ন দুটি এক জিনিস নয়
উদাহরণস্বরূপ আমাদের তিনটি শীর্ষস্থানীয় পদে তিনজন নারীর অবস্থান প্রমাণ করে না যে নারীরা এই দেশে বৈষম্যহীন সমাজে বাস করেন বরং তাঁরাও কখনো কখনো শিকার হন বৈষম্যের ও পুরুষতান্ত্রিকতার
কাজেই হাসিমুখের এই তরুণীর পথে এখনো অজস্র বাধাবিঘ্ন তাঁর পদতল কণ্টকাকীর্ণ তাঁর চতুর্দিকে এখনো রয়েছে অনেক কুটিল হাত ও বক্রোক্তি তরুণীর সংগ্রাম এখনো শেষ হয়ে যায়নি
তবে আশার কথা তরুণীর চলার ভঙ্গি দৃপ্ত দৃষ্টি হতাশ নয় এবং আমরা জানি এই সমাজে একটি আলাদা পরিচয় একটি নিজস্ব অবস্থান গড়ে তুলতে তাঁর এই প্রচেষ্টা থেমে থাকবে না
এখানেই আমাদের আশা ও ভরসা
বইটি সম্পাদনা করেছেন ফিরদৌস আজিম এবং মাহিন সুলতান প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড এবংব্র্যাক ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট
বাংলাদেশে স্থাপত্যচর্চা
একজন মানুষের পরিচয় হচ্ছে তাঁর সংস্কৃতি
ভাষা খাদ্য পোশাক জীবনযাপন—সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত
এর পরই আসে স্থাপত্যের কথা
যেকোনো দেশের স্থাপত্যে সেই দেশের সংস্কৃতির প্রভাব পড়তে বাধ্য
চীন দেশের স্থাপত্য এক রকম ইউরোপীয়দের অন্য রকম
আবার মোগল আমলের ভারত উপমহাদেশীয় স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্যও আলাদা
তাই বলা হয় স্থাপত্য হচ্ছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড
যাঁরা স্থাপত্যবিদ্যা পড়তে চান তাঁদের বলব এটি একটি স্বাপ্নিক জায়গা
পরিবেশকে সুন্দর করে গোছানোর একটি মাধ্যম হলো স্থাপত্যবিদ্যা
সভ্যতার বিকাশে স্থাপত্যবিদ্যা একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে
স্থাপত্যবিদ্যা হচ্ছে বিজ্ঞান ও কলার সংমিশ্রণ
এটি শুধু কলা নয় আবার শুধু বিজ্ঞানও নয়
স্থাপত্যকে এক সময় কলার অন্তর্ভুক্ত বলা হলেও কালক্রমে এটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর একটি বিষয় হয়ে উঠেছে
১৯৬২ সালের কথা
আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ যখন ১৯৬২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে বুয়েট রূপান্তরিত হয় তখন থেকেই এ দেশে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে স্থাপত্যবিদ্যার যাত্রা শুরু
ইউএস-এইডের আর্থিক সহায়তায় এ বিভাগটি গড়ে ওঠে
শুরুর পাঁচ বছর মার্কিন শিক্ষকদের মাধ্যমেই বিভাগটি পরিচালিত হতো
১৯৬৩ সালে আমি ছিলাম এ বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্র
সারা পৃথিবীতে যেভাবে স্থাপত্যবিদ্যা পড়ানো হয় ঠিক সেভাবেই আমাদের এখানেও স্থাপত্যবিদ্যার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয়
স্থাপত্যবিদ্যার বিশ্বমানের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি হলেও তখন এ দেশে কাজের ক্ষেত্র তেমন বিকাশ লাভ করেনি বললেই চলে
স্বাধীন বাংলাদেশেও অবস্থা অপরিবর্তিত থাকে
১৯৭২ থেকে ৮০ পর্যন্ত সময়টা ছিল স্থাপত্যের জন্য অনেকটা স্থবির সময়
সদ্য স্বাধীন দেশে সেটা অস্বাভাবিকও নয়
সে সময় স্থাপত্য বিষয়ক দু-একটি প্রতিষ্ঠান ছিল
তেমন কাজ ছিল না
আশির দশকে পেশা হিসেবে স্থাপত্য একটি শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে যায়
বেসরকারি পর্যায়ে প্রচুর আবাসিক ভবন তৈরি হতে থাকে
সরকারি অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও নির্মিত হয় সে সময়
স্থপতিরা মেধাবিকাশের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হওয়ার সুযোগ পান
স্থপতির কাজ ডিজাইন করা—বাংলায় বলা যেতে পারে নকশা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন
কিন্তু সাধারণ মানুষ স্থাপত্য এবং পুরকৌশলকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এক করে ফেলেন
সেটা সম্পর্কে একটু বলা দরকার
আমরা ছোটবেলায় যেকোনো রোগের চিকিৎসার জন্য এমবিবিএস চিকিৎসকের কাছে যেতাম— চোখের অসুখ হোক আর হার্টের অসুখ হোক
সব চিকিৎসাই করতেন একজন এমবিবিএস চিকিৎসক
এখন কিন্তু সব রোগের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা চিকিৎসক
এখানেও ব্যাপারটা তা-ই
মনে রাখতে হবে প্রত্যেক স্থপতিই প্রকৌশলী কিন্তু সব প্রকৌশলী স্থপতি নন
কর্মক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য
একজন স্থপতি তাঁর স্থাপত্যের নকশা এবং নকশাসংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় দেখে থাকেন
আর সেই স্থাপত্যের কাঠামোগত ব্যাপারগুলোরই বাস্তবায়নে সার্বিক দায়িত্বে থাকেন একজন সিভিল বা স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার
দেশের বাইরে এখন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার না বলে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার বলা হচ্ছে
স্থপতি হচ্ছেন স্রষ্টা
তিনি সৃজনশীল মানুষ
তিনি পুরো প্রকল্পের রূপকার
বাংলাদেশ বেশি মানুষের দেশ
মানুষ থাকলেই তো ঘরবাড়ি লাগবে
বাংলাদেশের মানুষের আর্থিক সক্ষমতা দিন দিন বাড়ছে
বাসস্থান নির্মাণের সুন্দর পরিকল্পনার জন্য স্থপতিদের চাহিদাও বাড়ছে দিন দিন
আমাদের দেশের মতো ঘন জনবসতিপূর্ণ দেশে স্থপতিদের কর্মক্ষেত্র দিন দিন প্রসারিত হবে তা বলা বাহুল্য
১৯৬২ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে এ দেশে প্রায় ১০ হাজার স্থপতি বেরিয়েছেন
কিন্তু সবাই হয়তো পেশাজীবনে জড়িত নেই
এখনো দেশে প্রচুর স্থপতির চাহিদা রয়েছে
নতুনেরা যতই আসবে এ বিষয়ে পড়তে স্থাপত্যের নতুন নতুন ধারণা ততই বিকশিত হবে
বাংলাদেশে স্থাপত্যবিদ্যার ক্রমপ্রসার ঘটেই চলেছে
নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও স্থাপত্য বিষয়ে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে
বুয়েট কিংবা অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নয় অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও চালু হয়েছে বেশ কিছু মানসম্মত স্থাপত্য অনুষদ
যাঁদের প্রকৌশলীর মন আছে আবার আঁকাআঁকিরও শখ আছে তাঁদের বলব স্থাপত্যবিদ্যায় পড়তে আসতে
শুধু আঁকতে চাইলে চারুকলায় পড়া ভালো
আর যাঁর দুটি মাধ্যমেই আগ্রহ আছে তিনি স্থাপত্যবিদ্যায় ভালো করবেন
স্থাপত্য এমন একটি জায়গা যেখানে নিজের সৃষ্টিশীলতা খুবই ভালোভাবে প্রকাশ করা যায়
ভালো আঁকতে তো পারতেই হবে তার পরও সবকিছু নিজের মতো করে দেখতে জানতে হবে
যেকোনো কিছুকেই দেখতে হবে অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে
তাহলেই সৃষ্টিশীলতার জায়গাটির উন্নতি হবে
স্থাপত্যবিদ্যার সবখানে বিজ্ঞান ও শিল্পের সমাহার
একজন শিক্ষার্থীকে দুটি ক্ষেত্রেই দক্ষ হতে হয়
এখানে পড়তে এসে যদি কেউ আনন্দ পায় তাহলে তাকে কেউ থামাতে পারবে না
এখানে পড়তে এটি জীবিকার বাহন হিসেবেও কাজ করবে আবার মনের তৃপ্তিও মেটাতে পারবে


সামসুল ওয়ারেস বিশিষ্ট স্থপতি ও স্থাপত্যবিদ্যার শিক্ষক
তিনি ১৯৭২ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে বুয়েট অধ্যাপনা করেছেন
তাঁকে বাংলাদেশের আবাসিক ভবনের নকশা প্রণয়নের ১৯৮৪-২০০০ ক্ষেত্রে অগ্রণী স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়
এ ছাড়া তাঁর অন্যতম কাজের মধ্যে রয়েছে শিশু পার্ক শাহবাগ বোটানিক্যাল গার্ডেন মিরপুর লাইভস্টক রিসার্স ইনস্টিটিউট সাভার প্রভৃতি
সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে অনুলিখিত
চোখ যখন স্থাপত্যবিদ্যায়
এইচএসসি পাসের পর এখন চলছে ভর্তির প্রস্তুতি
শুরু হয়ে গেছে জীবন গড়ার আয়োজন
কেউ চিকিৎসক কেউ প্রকৌশলী কেউ বা শিক্ষক হিসেবে জীবন সাজানোর জন্য হয়ে উঠেছেন ব্যতিব্যস্ত
তাঁদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাঁরা নিজেদের গড়ে তুলতে চান স্থাপত্যবিদ হিসেবে
গত বছর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বুয়েট স্থাপত্য বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থী মিনহাল আহমেদ বলেন স্থাপত্য বিষয়ে পড়ার স্বপ্ন ছিল
বলতে পারেন আমি আমার স্বপ্নটি পূরণ করতে পেরেছি
প্রতিবছর বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের একটি বিশাল অংশ স্থাপত্য বিভাগের ভর্তিযুদ্ধে অংশ নেয়
তাই প্রস্তুতিটা হওয়া চাই যথার্থ
যেহেতু এর সিলেবাসের সঙ্গে এইচএসসির সিলেবাসের কোনো মিল নেই তাই ভর্তি হতে ইচ্ছুক অনেক শিক্ষার্থী সমস্যায় পড়ে যান
তবে তাঁদের এসব সমস্যা অনেকাংশে দূর করে দেয় এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিজস্ব উদ্যোগে প্রকাশিত ভর্তি-সহায়িকাগুলো
এতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস ও মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হতে পারেন
